Saturday, October 3, 2020

মুনাজাত কিভাবে করতে হয়?

মুনাজাত কিভাবে করতে হয়? 
‘মুনাজাত’ শব্দের অর্থ হচ্ছে কারো সাথে চুপিচুপি বা গোপনে কথা বলা। মুনাজাত করার নিয়মঃ 
(১) যেকোন সময় মুনাজাত করা যায়, দিনে রাতে, দাঁড়ানো অবস্থায়, শুয়ে-বসে, ওযু ছাড়া বা ওযু করে, এমনকি গোসল ফরয এমন অবস্থায়, অথবা নারীদের ঋতু অবস্থাতেও মুনাজাত বা দুয়া করতে পারবেন। তবে ফরয সালাতের পরপরই হাত দুই তুলে মুনাজাত করবেন না। মসজিদে ফরয সালাতের পরে সম্মিলিতভাবে যেই মুনাজাত পড়ানো হয়, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এইভাবে সম্মিলিত মুনাজাত কোনদিন করেননি, বরং এটা একটা বিদআ’ত। সেইজন্য পাঁচ ওয়াক্ত ফরয সালাতের সালাম ফেরানোর পরে কিছু ‘সুন্নতী’ যিকির আযকার আছে, প্রথমে সেই যিকির ও দুয়াগুলো করে এর পরে ইচ্ছা হলে ‘একাকী’ হাত তুলে মুনাজাত করতে পারেন। অথবা ফরয, সুন্নত সব সালাত শেষ করে এরপরে মুনাজাত করবেন। উত্তম হচ্ছে সালাতের পরে নয়, বরং সালাতের ভেতরেই বিভিন্ন স্থানে (যেমন সিজদাতে, দুই সিজদার মাঝখানে, দুয়া মাসুরাসহ এমন সাতটি জায়গা আছে সালাতের ভেতরে, যেখানে দুয়া করা যায়), সেই জায়গাগুলোতে দুয়া করা। কারণ সালাতের ভেতরের দুয়াগুলো বেশি কবুল হয় ও আল্লাহ পছন্দ করেন। আল্লাহ বলেন, “তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো।” সুরা আল-বাক্বারাহ। 
উল্লেখ্য, অনেকে মনে করেন সালাতের পরে মুনাজাত করতেই হবে। এটা ঠিক নয়, সালাতের পরে আপনার ইচ্ছা হলে মুনাজাত করবেন, ইচ্ছা না হলে করবেন না, এটা আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা। মুনাজাত করা সালাতের কোন অংশ নয়। সালাম ফেরানোর মাধ্যমেই আপনার সালাত শেষ হয়ে যায়। 
.
(২) ওযু অবস্থায় পশ্চিম দিকে ফিরে দুয়া করা মুস্তাহাব বা উত্তম। তবে এটা ফরয কিংবা জরুরী নয়। ওযু ছাড়াও এবং পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ, যেকোন দিকে ফিরেও মুনাজাত করা যায়। 
.
(৩) মুনাজাতের সময় দুই হাত তোলা মুস্তাহাব। আল্লাহ এটা পছন্দ করেন যে তাঁর বান্দা-বান্দীরা ভিক্ষুকের মতো তাঁর সুমহান দরবারে অত্যন্ত বিনীতভাবে কাকুতি-মিনতি সহকারে দুই হাত তুলে আন্তরিকভাবে দুয়া করবে। এইভাবে দুয়া করলে আল্লাহ খুশি হন এবং সেই দুয়া কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের রব লজ্জাশীল ও দানশীল। তাঁর বান্দা যখন তাঁর নিকট দুই হাত তুলে প্রার্থনা করে, তখন তিনি তাদেরকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে লজ্জাবোধ করেন।” তিরমিযী, আবু দাউদ, বুলুগুল মারামঃ ১৫৮১।
.
(৪) মুনাজাতের সময় হাত তোলার নিয়মঃ আল্লামাহ বাকর বিন আবু যাইদ রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “মুনাজাতকারী তার দুই হাত বাহু বরাবর বা তার কাছাকাছি এমনভাবে উঠাবে যেন তার দুই হাত মিলিত অবস্থায় থাকে, দুই হাতের মাঝখানে কোন ফাঁক না থাকে। হাতের তালু আকাশের দিকে থাকে এবং হাতের পিঠ যমীনের দিকে। চাইলে উভয় তালু চেহারার সম্মুখে রাখবে এবং হাতের পৃষ্ঠদেশ কিবলামুখী করবে এবং দুই হাত যেন পাক-সাফ থাকে, খোলা থাকে কোনো কিছু দ্বারা আবৃত না থাকে।” তাসবীহুদ-দুয়াঃ ১১৫-১১৬, ফাতহুল বারীঃ ২/৫১৭-৫১৮, শারহুল আযকারঃ ৭/২৪৭। 
.
(৫) মুনাজাত করতে হবে বিনীত ভাবে, নীচু স্বরে, মনে এই দৃঢ় আশা ও প্রত্যয় নিয়ে যে,
- আল্লাহ সব কিছু শুনেন, তিনি বান্দার দুয়া শ্রবণ করেন
- আল্লাহ সমস্ত বিষয়ের উপরে ক্ষমতাবান এবং তিনি যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। সুতরাং আমি যেই দুয়া করিনা কেনো, আল্লাহ ইচ্ছা করলে তা-ই কবুল করতে সক্ষম।
- আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। এমনকি তিনি তাঁর বান্দাদেরকে দুয়া করতে আদেশ করেছেন এবং দুয়া করলে তিনি কবুল করবেন বলে অগ্রিম ঘোষণা দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন, “আর তোমাদের প্রতিপালক বলেন, তোমরা আমার কাছে দুয়া করো, আমি তোমাদের দুয়া কবুল করবো।” (সুরা আল-মুমিনঃ ৬০)। 
সুতরাং, মহান আল্লাহ আমার দুয়া কবুল করবেন।
“আমি এতো পাপী – আল্লাহ আমার দুয়া করবেন কিনা? আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করবেন, নাকি করবেন না? মনে এইরকম কোন সন্দেহ নিয়ে অথবা আল্লাহ আমার দুয়া কবুল করবেন না, আমাকে মাফ করবেন না” – আল্লাহ সম্পর্কে এমন খারাপ ধারণা নিয়ে দুয়া করলে আল্লাহ সেই দুয়া সত্যিই কবুল করেন না। বান্দা যতই পাপী বা অন্যায়কারী হোক না কেনো, সে আন্তরিকভাবে তোওবা করে জান্নাতের আশা রেখেই দুয়া করবে। বিপদ যত বড়ই হোক না কেনো, আল্লাহ সব ইচ্ছা পূরণ করতে পারেন, এই আশা নিয়েই দুয়া করবে। আর যেই দুয়া করা হচ্ছে সেইদিকে মনোযোগ দিয়ে, বুঝে শুনে আল্লাহর কাছে চাইতে হবে। উদাসীন হয়ে বা অন্তর থেকে না চেয়ে শুধুমাত্র মুখে তোতাপাখির মতো উচ্চারণ করে দুয়া করলে, বা আন্তরিক দুয়া না করে লোক দেখানো দুয়া করলে, আল্লাহ সেই দুয়া কবুল করেন না। মনে আশা ও ভয় নিয়ে মনোযোগীতার সহিত কান্নাকাটি করে দুয়া করলে আল্লাহ অত্যন্ত খুশী হন এবং বান্দার দুয়া কবুল করেন।
.
(৬) মুনাজাতের প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা উচিত। আল্লাহর প্রশংসা এভাবে করা যেতে পারেঃ
التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ، وَالصَّلَواتُ، وَالطَّيِّباتُ،
উচ্চারণঃ আত্তাহি’য়্যা-তু লিল্লা-হি ওয়াস-সালাওয়া-তু ওয়াত্তয়্যিবা-ত।
অর্থঃ সমস্ত অভিবাদন, সকল সালাত ও পবিত্র কাজ শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য।
অথবা, এটা বলেও আল্লাহর প্রশংসা করা যাবে,
الْحَمْدُ لِلَّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ
উচ্চারণঃ আলহা’মদুলিল্লাহি হা’মদান কাসীরান ত্বায়্যিবান মুবা-রাকান ফীহ।
অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যে প্রশংসা পবিত্রতা ও বরকতপূর্ণ।
অথবা এটা বলে আল্লাহর প্রশংসা করা যাবে – الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
উচ্চারণঃ আলহা’মদু লিল্লাহি রাব্বিল আ’লামিন।
অর্থঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।
এভাবে এক বা একাধিক আল্লাহর জন্য প্রশংসামূলক বাক্য দ্বারা মুনাজাত শুরু করা উত্তম।
.
(৭) আল্লাহর প্রশংসার পরে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরুদ ও শান্তির জন্য দুয়া পড়তে হবে। সহীহ হাদীসে বর্ণিত ছোট-বড় যেকোন দুরুদ পড়া যাবে, আপনার যেটা ভালো লাগে সেটা পড়বেন। সর্বোত্তম দুরুদ হচ্ছে দুরুদে ইব্রাহীম, যেটা আমরা সালাতে পড়ি। এটা না পড়ে ছোট অন্য দুরুদও পড়া যাবে। যেমন- 
اللَّهُمَّ صَلِّ وَسَلِّمْ عَلَى نَبَيِّنَا مُحَمَّدٍ
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মা সল্লি ওয়া সাল্লিম আ’লা নাবিয়্যিনা মুহা’ম্মাদ। 
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। সহীহুত তারগীব ওয়াত তারহীবঃ ১/২৭৩।
একদিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম দেখলেন, এক ব্যক্তি দুয়া করছে কিন্তু সে দুয়াতে আল্লাহর প্রশংসা ও রাসুলের প্রতি দরূদ পাঠ করেনি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে লক্ষ্য করে বললেন, “সে তাড়াহুড়ো করেছে।” অতঃপর সে আবার প্রার্থনা করল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে অথবা অন্য কাউকে বললেন, “যখন তোমাদের কেউ দুয়া করে তখন সে যেন প্রথমে আল্লাহ তাআ’লার প্রশংসা ও গুণগান দিয়ে দুয়া শুরু করে। অতঃপর রাসুলের প্রতি দুরুদ পাঠ করে। এরপর তার যা ইচ্ছা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।” আবু দাউদঃ ১৪৮১, তিরমিজীঃ ৩৪৭৭, শায়খ আলবানীর মতে হাদীসটি সহীহ।
.
(৮) এরপর নিজের পছন্দমতো নিজের জন্য ও অন্যের জন্য, দুনিয়া বা আখেরাতের যেকোন কল্যাণের জন্য দুয়া করতে হবে। প্রথমে নিজের গুনাহ মাফের জন্য, নিজের দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণের জন্য দুয়া করতে হবে। এরপর নিজের বাবা-মা, নিজ পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও অন্য মুসলমান পুরুষ ও নারীদের জন্য দুয়া করা ভালো। সবচাইতে কম কথায় সবচাইতে বেশি প্রার্থনা করার এই দুয়াটা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া  সাল্লাম খুব বেশি বেশি করতেন। “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অধিকাংশ দুয়া হতঃ
رَبَّنَآ اٰتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَّفِي الْاٰخِرَةِ حَسَـنَةً وَّقِنَا عَذَابَ النَّارِ
উচ্চারণঃ রব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া হা’সানাতাওঁ-ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়া-ক্বিনা আ’যাবান-নার। 
অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ দাও এবং পরকালের জীবনেও কল্যাণ দান করো। আর আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে বাঁচাও। 
বিঃদ্রঃ এই দুয়াটা “আল্লাহুম্মা আতিনা...” বা “রাব্বানা আতিনা...”, এই দুইভাবেই পড়া যায়। 
এছাড়া নিজের জীবিত/মৃত পিতা-মাতার জন্য এই দুয়া সর্বদা বেশি করে পড়তে হবেঃ 
رَّبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا
উচ্চারণঃ রব্বির হা’ম-হুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সগিরা।
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি আমার পিতা-মাতার প্রতি তেমনি দয়া করো, যেইরকম দয়া তারা আমাকে শিশু অবস্থায় করেছিল। 
.
(৯) আরবী বা বাংলায় যেকোন ভাষাতেই মুনাজাত করা যায়, আল্লাহ সকল ভাষাই বোঝেন। তবে সালাতের ভেতরে উত্তম হচ্ছে ক্বুরআন ও হাদীসের দুয়াগুলো আরবীতে মুখস্থ করে সেইগুলো দিয়েই দুয়া করা। যেমন রিযক বা টাকা-পয়সা, রোগ থেকে মুক্তি বা সুস্থতা এমন অনেকগুলোর জন্য এই দুয়াটি দুই সিজদার মাঝখানে, সিজদাতে সিজদার তাসবীহ পড়ার পরে বা দুয়া মাসুরা হিসেবে পড়লেই হবে,
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي، وَارْحَمْنِي، وَاهْدِنِي، وَاجْبُرْنِي، وَعَافِنِي، وَارْزُقْنِي، وَارْفَعْنِي
উচ্চারণঃ আল্লা-হুম্মাগফিরলী, ওয়ারহা’মনী, ওয়াহদিনী, ওয়াজবুরনী, ওয়াআ’ফিনি, ওয়ারযুক্বনী, ওয়ারফাঅ’নী।
অর্থঃ হে আল্লাহ! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন, আমাকে সঠিক পথে পরিচালিত করুন, আমার সমস্ত ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করে দিন, আমাকে নিরাপত্তা দান করুন, আমাকে রিযিক দান করুন এবং আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করুন।
আবু দাউদঃ ৮৫০, তিরমিযী ২৮৪, ইবন মাজাহঃ ৮৯৮। শায়খ আলবানীর মতে হাদীসটি সহীহ।
উল্লেখ্য, সালাতের ভেতরে দুয়া করলে হাত তুলতে হবেনা, কারণ তখনতো আপনি সালাতে মাঝেই আছেন। সিজদায় গিয়ে প্রথমে সিজদার তাসবীহ পড়বেন, এর পরে অন্য দুয়া করতে পারবেন। আপনার ইচ্ছা অনুযায়ী যেকোন সিজদাতেই দুয়া করতে পারবেন, নির্দিষ্ট কোন নিয়ম নেই। আরবী ভাষা না জানলে নফল ও সুন্নত সালাতে বাংলা বা অন্য ভাষাতেও দুয়া করা যাবে, ইন শা আল্লাহ, কোন সমস্যা নেই। তবে সতর্কতাবশত ফরয সালাতে অন্য ভাষায় দুয়া না করে শুধুমাত্র আরবী দুয়াগুলো করাই নিরাপদ।
.
(১০) দুয়া করা শেষ হলে ‘আমিন’ অথবা ‘আমিন ইয়া রাব্বাল আ’লামীন’ বলবেন। আমীন অর্থ হচ্ছে, “হে আল্লাহ তুমি আমার দুয়া কবুল করো”। 
.
(১১) সর্বশেষ, পুনরায় নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি দুরুদ পড়ে ও আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে মুনাজাত শেষ করবেন।  
আবু সুলায়মান আদ-দারানি রহি’মাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোন কিছুর জন্য দুয়া করতে চায় তাহলে, সে যেন প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা অতঃপর, (দুরুদ পড়ার মাধ্যমে) নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি শান্তি ও বরকতের জন্য দুয়া করে। এরপর সে তার প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য দুয়া করে। দুয়ার শেষে সে যেন নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য পুনরায় দুরুদ পড়ে। কারণ, মহান আল্লাহ দুইটি দুরুদ অবশ্যই কবুল করবেন, সুতরাং (আশা করা যায় যে), দুইটি দুরুদের মাঝে (বান্দার নিজের জন্য কৃত) দুয়াগুলো মহানুভব পরাক্রমশীল আল্লাহ ফিরিয়ে দেবন না” ইহইয়া উ’লুম আদ-দ্বীনঃ ১/৩৮৬।
.
(১২) দুয়া শেষে হাত দিয়ে মুখ মোছা নিয়ে কোন একটি ‘সহীহ’ হাদীস নেই। ইমাম মুহাম্মাদ নাসির উদ্দীন আলবানী রহি’মাহুল্লাহ বলেছেন, “মুখে হাত মোছা নিয়ে যেই হাদিসগুলো এসেছে তার একটাও সহীহ নয়।” এ কারণে প্রখ্যাত হানাফী আলেম, ইমাম ই’জ্জ ইবনে আব্দুস সালাম রহি’মাহুল্লাহ এই কাজের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, “একমাত্র জাহেল লোক ছাড়া আর কেউ মুনাজাতের পরে হাত দিয়ে মুখ মোছেনা।” ফাতওয়া ই’জ্জ ইবনে আব্দুস সালামঃ ৪৭। 
নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম মুনাজাত শেষে হাত দিয়ে মুখ মুছতেন; এটা বিশুদ্ধ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়নি। তাই এই কাজ না করাই উত্তম। কারণ ইবাদতের কোন কিছু ক্বুরআন ও সহীহ হাদীসের প্রমান ছাড়া করা যায়না। মুনাজাত শেষ করে আমিন বলে হাত নামিয়ে ফেলবেন।

Friday, October 2, 2020

সিজদার দো‘আ সমূহ

সিজদার দো‘আ সমূহ:-
 
রাসুল (সা:) বলেছেন সিজদার সময় বান্দা আল্লাহ্‌র সবচেয়ে বেশি নিকটে থাকে, তাই তোমরা সিজদায় বেশি করে দুয়া করো।
 
সিজদায় কমপক্ষে ৩ বার বলতে হবে-
 سبحان ربي العلى-
 
সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা 
অর্থাৎ আমার মহান সুউচ্চ প্রতিপালকের পবিত্রতা বর্ণনা করছি।
 (আবু দাউদ, নাসাই, ইবন মাজা,আহমাদ)
 
সিজদার অন্যান্য দো‘আ সমূহের কয়েকটি :---
 
1- (اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ ذَنْبِيْ كُلَّهُ دِقَّهُ وَجِلَّهُ وَ أَوَّلَهُ وَآخِرَهُ وَعَلاَنِيَتَهُ وَسِرَّهُ (مسلم)-
 
আল্লাহুম্মাগফিরলি জাম্বি কুল্লুহ, দিক্কাহু ওয়া জিল্লাহু, ওয়া আউয়ালাহু ওয়া আখিরাহু ওয়া আলা নিয়্যাতাহু ওয়া সিররাহু 
অর্থাৎ হে আলালহ আমার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দাও, ছোট গুনাহ, বড় গুনাহ, আগের গুনাহ, পরের গুনাহ, প্রকাশ্য অ গোপন গুনাহ।( মুসলিম ১/৩৫০)
 
2- (سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا وَبِحَمْدِكَ اَللَّهُمَّ اغْفِرْ لِيْ (مسلم)-
 
সুব হানাকা আল্লাহুম্মা রব্বানা ওয়া বিহামদিকা আল্লাহুম্মাগফিরলি
 অর্থাৎ
 হে আল্লাহ্‌, আমাদের প্রভু! তোমার পবিত্রতা ঘোষণা করি তোমার প্রশংসা সহ। হে আল্লাহ্‌! তুমি আমাকে মাফ করে দাও।( বুখারি ও মুসলিম)
 
3-اَللَّهُمَّ إنِّيْ أَعُوْذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ، وَأَعُوْذُ بِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوْبَتِكَ، وَأَعُوْذُ بِكَ مِنْكَ، لاَ أُحْصِيْ (ثَنَاءً عَلَيْكَ، أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ (مسلم-
 
আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবি রিদ্বা-কা মিন সাখাতিকা, ওয়া বি মুয়া-ফা-তিকা মিন উকুবাতিকা ওয়া আউজুবিকা মিঙ্কা, লা উহসি ছানা- আ আলাইকা আনতা কামা আছনাইতা আলা নাফসিকা 
অর্থাৎ 
হে আল্লাহ্‌! আমি আশ্রয় চাই তোমার অসন্তুষ্টি হতে তোমার সন্তুষ্টির মাধ্যমে, আর আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই তোমার গজব হতে, তোমার প্রশংসা গুনে শেষ করা যায় না, তুমি সেই প্রশংসার যোগ্য যেরূপ নিজের প্রশংসা তুমি নিজে করেছো।( মুসলিম ১/ ৩৫২০)
 
4- اَللَّهُمَّ لَكَ سَجَدْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، وَلَكَ أَسْلَمْتُ وَ أَنْتَ رَبِّىْ، سَجَدَ وَجْهِيَ لِلَّذِيْ خَلَقَهُ وَصَوَّرَهُ فَأَحْسَنَ صُوَرَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ، فَتَبَارَكَ اللهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِيْنَ (مسلم)- (صفة صلاة النبي
 
আল্লাহুম্মা লাকা সাজাদতু ওয়াবিকা আমান্তু ওয়া লাকা আস্লামতু সাজাদা ওয়াজ হিয়ালিল্লাজি খলাকাহু ওয়া সাউওয়ারাহু, ওয়া শাক্কা সাম'আহু ওয়া বাসারাহু, তাবা-রাকাল্লা-হুছি, আহসানুল খ-লিকিনা 
অর্থাৎ
 হে আল্লাহ আমি তোমারই জন্য সিজদা করেছি, তোমারই প্রতি ঈমান এনেছি। তোমার জন্য নিজেকে শপে দিয়েছি আমার মুখ মণ্ডল ( আমার সমগ্র দেহ) সিজদায় অবনমিত সেই মহান সত্ত্বার জন্য যিনি উহাকে সৃষ্টি করেছেন এবং সমন্বিত আকৃতি দিয়েছেন এবং উহার কান ও চোখ দিয়েছেন,মহিমান্নিত আল্লাহ্‌ সর্বোত্তম স্রস্টা। ( মুসলিম ১/৫৩৪)

Jajak Allah Khair

Saturday, September 12, 2020

Dua, Supplications

 

আসবাহ্‌না ওয়া আসবাহাল মুলকু লিল্লাহি ওয়ালহাম্‌দু লিল্লাহি, লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর। রব্বি আস্আলুকা খাইরা মা ফী হা-যাল ইয়াউমি ওয়া খাইরা মা বা‘দাহু, ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি মা ফী হা-যাল ইয়াউমি ওয়া শাররি মা বা‘দাহু। রব্বি আঊযু বিকা মিনাল কাসালি ওয়া সূইল-কিবারি। রব্বি আ‘ঊযু বিকা মিন ‘আযাবিন ফিন্না-রি ওয়া আযাবিন্ ফিল ক্বাবরি।

 

আল্লা-হুম্মা বিকা আসবাহ্‌না ওয়াবিকা আমসাইনা ওয়াবিকা নাহ্‌ইয়া, ওয়াবিকা নামূতু ওয়া ইলাইকান নুশূর।

 

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসবাহ্‌তু উশহিদুকা ওয়া উশহিদু হামালাতা ‘আরশিকা ওয়া মালা-ইকাতিকা ওয়া জামী‘আ খালক্বিকা, আন্নাকা আনতাল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা আনতা ওয়াহ্‌দাকা লা শারীকা লাকা, ওয়া আন্না মুহাম্মাদান আব্দুকা ওয়া রাসূলুকা।


 

আল্লা-হুম্মা মা আসবাহা বী মিন নি‘মাতিন আউ বিআহাদিন মিন খালক্বিকা ফামিনকা ওয়াহ্‌দাকা লা শারীকা লাকা, ফালাকাল হাম্‌দু ওয়ালাকাশ্ শুক্‌রু।

 

আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাদানী,

আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী সাম্‘ঈ

আল্লা-হুম্মা ‘আ-ফিনী ফী বাসারী।

লা ইলা-হা ইল্লা আনতা।

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘উযু বিকা মিনাল কুফরি ওয়াল-ফাক্বরি

ওয়া আ‘উযু বিকা মিন ‘আযা-বিল ক্বাবরি,

লা ইলাহা ইল্লা আন্‌তা।

 

হাসবিয়াল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুয়া, ‘আলাইহি তাওয়াক্কালতু, ওয়াহুয়া রব্বুল ‘আরশিল ‘আযীম।

সুব্‌হানাল্লা-হিল ‘আযীম ওয়াবিহামদিহী।

সুব্‌হানাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী, সুব্‌হানাল্লা-হিল ‘আযীম।

 

 

 

লা হাউলা ওয়ালা কূওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ।

 

সুবহানাল্লা-হি ওয়ালহাম্‌দু লিল্লা-হি ওয়ালা ইলা-হা

ইল্লাল্লা-হু ওয়াল্লা-হু আকবার।

 

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু,

আল্লা-হু আকবার কাবীরান, ওয়ালহামদুলিল্লা-হি কাসীরান, সুবহা-নাল্লা-হি রাব্বিল আ-লামীন, লা হাউলা ওয়ালা কূওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হিল ‘আযীযিল হাকীম।

 

আল্লা-হুম্মাগফির লী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী,  ওয়ারযুক্বনী।

 

আল্লা-হুম্মাগফির লী ওয়ারহামনী ওয়াহদিনী ওয়া ‘আ-ফিনী ওয়ারযুক্বনী।

সুবহা-নাল্লা-হি, ওয়ালহামদুলিল্লা-হি, ওয়া লা-ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু, ওয়াল্লা-হু আকবার, ওয়ালা হাউলা ওয়ালা কূওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হি।

 

 

“আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া ওয়াল- ‘আ-ফিয়াতা ফিদ্দুনইয়া ওয়াল আ-খিরাতি।

আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল ‘আফওয়া

ওয়াল-‘আ-ফিয়াতা ফী দ্বীনী ওয়াদুনইয়াইয়া,

ওয়া আহ্‌লী ওয়া মা-লী, আল্লা-হুম্মাসতুর

‘আওরা-তী ওয়া আ-মিন রাও‘আ-তি।

আল্লা-হুম্মাহফাযনী মিম্বাইনি ইয়াদাইয়্যা ওয়া মিন খালফী

ওয়া ‘আন ইয়ামীনী ওয়া শিমা-লী ওয়া মিন ফাওকী।

ওয়া আ‘ঊযু বি‘আযামাতিকা আন উগতা-লা মিন তাহ্‌তী।“

 

আল্লা-হুম্মা আ-লিমাল গাইবি ওয়াশ্‌শাহা-দাতি ফা-ত্বিরাস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্বি, রব্বা কুল্লি শাইইন ওয়া মালীকাহু,আশহাদু আল-লা ইলা-হা ইল্লা আনতা। আউযু বিকা মিন শাররি নাফ্‌সী ওয়া মিন শাররিশ শাইত্বা-নি ওয়াশিরকিহী/ওয়াশারাকিহী ওয়া আন আক্বতারিফা ‘আলা নাফ্‌সী সূওআন আউ আজুররাহূ ইলা মুসলিম।

 

রদ্বীতু বিল্লা-হি রব্বান, ওয়াবিল ইসলা-মি দ্বীনান, ওয়াবি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামা নাবিয়্যান।

 

ইয়া হাইয়্যু ইয়া ক্বাইয়্যূমু বিরহ্‌মাতিকা আস্তাগীসু, আসলিহ্‌ লী শা’নী কুল্লাহু, ওয়ালা তাকিলনী ইলা নাফসী ত্বারফাতা ‘আইন।

 

 আসবাহ্‌না ওয়া আসবাহাল-মূলকু লিল্লা-হি রব্বিল ‘আলামীন। আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা খাইরা হাযাল ইয়াওমি ফাতহাহু ওয়া নাসরাহু ওয়া নুরাহু ওয়া বারাকাতাহু ওয়া হুদা-হু। ওয়া আ‘ঊযু বিকা মিন শাররি মা ফীহি ওয়া শাররি মা বা‘দাহু।

 

আসবাহনা ‘আলা ফিতরাতিল ইসলামি ওয়া আলা কালিমাতিল ইখলাসি ওয়া আলা দ্বীনি নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লা-হু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়া আলা মিল্লাতি আবীনা ইবরা-হীমা হানীফাম মুসলিমাও ওয়ামা কা-না মিনাল মুশরিকীন।

 

লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্‌দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু, ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বাদীর।

 

সুব্‌হা-নাল্লা-হি ওয়া বিহামদিহী ‘আদাদা খালক্বিহী, ওয়া রিদা নাফসিহী, ওয়া যিনাতা ‘আরশিহী, ওয়া মিদা-দা কালিমা-তিহী। 

 

আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতূবু ইলাইহি।

আ‘ঊযু বিকালিমা-তিল্লা-হিত তা-ম্মাতি মিন শাররি মা খালাক্বা।

 

আল্লা-হুম্মা সাল্লি ওয়াসাল্লিম ‘আলা নাবিয়্যিনা মুহাম্মাদ।

 

 

Wednesday, August 26, 2020

Terms & definations

 Effectiveness actually means, doing the right things and efficiency refers to doing things in right way.

Friday, August 16, 2019

Salat e Janaza

জানাযার নামাজের বিবরনঃ

মুর্দাদের রূহের মাগফিরাট কামনায় দাফনের  আগে এই নামাজ পড়া হয়, উহাকে জানাযার নামাজ বলে, এই নামাজ ফরজে "কেফায়াহ"। কিছু লোকে আদায় করিলে সকলের পক্ষ হইতে আদায় হইয়া যায়।

মূর্দাদের মাথা উওর দিকে রাখিয়া ছিনা বরাবর ইমাম দাড়াইবে তাহার পিছনে ৩/৫/৭ কাতারে মুক্তাদীগণ  দাড়াইবে।

ইমামের তাকবীরের পরে মুক্তাদীগণ নিয়ত করত হাত বাধিয়া নামাজ শুরু করবে।এই নামাজে চার তাকবীর বলা ও দাড়ানো ফরজ এবং মুর্দার জন্য দোয়া করা ওয়াজীব।

জানাযার নামাজের নিয়তঃ

উচ্চারনঃ
নাইয়াইতু আন উআদ্দিয়া লিল্লাহি তায়ালা আরবায়া তাকবিরাতি ছালাতিল জানাজাতি ফারদিল কিফায়াতি,আছানাউ লিল্লাহী তায়ালা  ওয়াছালাতু আলান্নাবিয়ি ওয়াদ্দুআউ লিহাযাল মাইয়িতি মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কা'বাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবর।

ছানাঃ

উচ্চারনঃ

সুবহানাকা আল্লাহুম্মা ও বিহামদিকা ওয়া তাবারাকাসমুুকা ওয়া তাআলা জাদ্দুকা ওজাল্লা ছানাউকা ওয়ালা ইলাহা গাইরুকা।

তারপর ২য় তাকবীর বলিয়া হাত না উঠাইয়া সকলে চুপে চুপে দুরূদ শরীফ পাঠ করিবে
হাত না উঠাইয়া ৩য় তাকবীরে বলিয়া নিচের দোয়া পরিবে।

জানাযার নামাজের দোয়াঃ

উচ্চারনঃ
আল্লাহুম্মাগ ফির লিহাইয়িনা ওয়া মাইয়িতিনা ওয়া শাহিদীনা ওয়া গায়িবিনা।

আল্লাহুম্মা মান আহইয়াইতাহু ।মিন্না ফায়াহয়িহী আলাল ইসলামী ওয়া মান তাওয়াফফাহু আলালঈমান।

অর্থ ঃ
হে আল্লা!আমাদের ভিতরে জীবিত, মৃত,বালক বালিকা, সকলকে মাফ করিয়া দিন। হেআল্লাহ! আমাদের ভিতরে  যাহাদেরকে জীবিত রাখ ইসলামের উপর জীবিত রাখিও। যাহাদের মৃতু্ ঘটাও  তাদেরকে ইমানের সাথে মৃত্যু দান করিও।


Wednesday, August 14, 2019

সালাতুয যুহা, চাশত, ইশরাক, আওয়াবিন: এগুলোর অর্থ, ওয়াক্ত, ফযিলত এবং এগুলোর মধ্যে পার্থক্য

সালাতুয যুহা, চাশত, ইশরাক, আওয়াবিন:
এগুলোর অর্থ, ওয়াক্ত, ফযিলত এবং এগুলোর মধ্যে পার্থক্য

আল্লামা আব্দুল্লাহ বিন বায রাহ. বলেন, সালাতুল ইশরাক বা শুরুক, সালাতু যোহা বা চাশত এবং সালাতুল আওয়াবীন ইত্যাদিগুলো একই নামাযের ভিন্ন ভিন্ন নাম।

🔸 ইশরাক অর্থ: সূর্যোদয়। সূর্য উঠার ১৫/২০ মিনিট পরে যে সালাত আদায় হয় তাকে সালাতুল ইশরাক বলা হয়। এটি মূলত: সালাতুয যোহার ১ম সময়।
🔸 সালাতুয যোহা অর্থ: পূর্বাহ্নের সালাত। এটিকেই চাশত বলা হয়। সূর্যের উত্তাপ বেশি হওয়ার পর এই সালাত আদায় করা হয়। সময়ের হিসেবে যোহর সালাতের দেড় বা দু ঘণ্টা পূর্বে এটি আদায় করা সবচেয়ে উত্তম।

🔸সালাতুল আওয়াবীন অর্থ: আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের সালাত। এটিই সালাতুয যোহা বা চাশতের অপর নাম। যেমন:

হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنّ رَسُولَ اللّهِ صَلّى اللّهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ قَالَ: لَا يُحَافِظُ عَلَى صَلَاةِ الضّحَى إلّا أَوّاب وهي صلاة الأوابين
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "সালাতুয যোহা (চাশতের নামায) এর প্রতি কেবল সেই যত্নবান হতে পারে যে, আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। সুতরাং এটাই হল 'সালাতুল আওয়াবীন' বা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তনকারীদের সালাত।"
(সহিহ ইবনে খুযায়মা, শাইখ আলবানী এটিকে হাসান বলেছেেন। দ্রষ্টব্য: সহিহ তারগীব তারহীব ১/১৬৪)

অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
عَنِ الْقَاسِمِ الشَّيْبَانِيِّ، أَنَّ زَيْدَ بْنَ أَرْقَمَ، رَأَى قَوْمًا يُصَلُّونَ مِنَ الضُّحَى فَقَالَ أَمَا لَقَدْ عَلِمُوا أَنَّ الصَّلاَةَ فِي غَيْرِ هَذِهِ السَّاعَةِ أَفْضَلُ ‏.‏ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ صَلاَةُ الأَوَّابِينَ حِينَ تَرْمَضُ الْفِصَالُ ‏"

কাসিম আশ শায়বানী রহ. থেকে বর্ণিত যায়দ ইবনু আরকাম রা. একদল লোককে 'যুহা’ বা চাশতের সলাত আদায় করতে দেখে বললেনঃ এখন তো লোকজন জেনে নিয়েছে যে, এ সময় ব্যতীত অন্য সময় সলাত আদায় করা উত্তম বা সর্বাধিক মর্যাদার। কেননা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ 'সলাতুল আওয়াবীন’ সলাতের সময় হ’ল তখন সূর্যতাপে উটের বাচ্চাদের পা গরম হয়ে যায়।
[(সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী) অধ্যায়ঃ ৬। মুসাফিরদের সলাত ও তার কসর (كتاب صلاة المسافرين وقصرها), হাদিস নম্বরঃ [1631] পরিচ্ছদঃ ১৯. যখন উটের বাচ্চা গরম অনুভব করে (দিনের উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়) তখনই সলাতুল আওওয়াবীন (চাশতের সলাতের সময়)]

👉 উল্লেখ্য যে, অনেকে মাগরিব ও ইশার সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে ছয় রাকাআত নফল সালাতকে সালাতুল আওয়াবীন হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। কিন্তু উপরোক্ত হাদীসের আলোকে প্রমাণিত হয় যে, এ কথা ঠিক নয়। যদিও মাগরিব ও ইশার সালাতের মধ্যবর্তী সময়ে নফল সালাত আদায় করা হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তবে তা ছয় রাকাআতে সীমাবদ্ধ নয়। বরং যতখুশি পড়া যায়। আর সেটিকে সালাতুল আওয়াবীন বলাটা ভুল বা উক্ত হাদীস পরিপন্থী।

এর সর্বশেষ সময় সূর্য মাথার উপরে আসার আগ পর্যন্ত।

❖ সালাতুল ইশরাক এর ফযীলত:

সালাতুল ইশরাক অত্যন্ত ফযীলতপূর্ণ সালাত। এ মর্মে হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
مَنْ صَلَّى الْغَدَاةَ فِي جَمَاعَةٍ ، ثُمَّ قَعَدَ يَذْكُرُ اللَّهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ ، كَانَتْ لَهُ كَأَجْرِ حَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ
“যে ব্যক্তি ফজরের নামায জামাআতে পড়ে, অতঃপর সূর্যোদয় অবধি বসে আল্লাহর যিকির করে তারপর দুই রাকআত নামায পড়ে, সেই ব্যক্তির একটি হজ্জ ও উমরার সওয়াব লাভ হয়।”
বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রসূল (সাঃ) বললেন, “পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ, পরিপূর্ণ।” অর্থাৎ কোন অসম্পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব নয় বরং পূর্ণ হজ্জ-উমরার সওয়াব। (তিরমিযী, সুনান, সহিহ তারগিব ৪৬১নং)
উল্লেখ্য যে, এ হাদীসটি অনেক মুহাদ্দিস যঈফ বলেছেন। কিন্তু মুহাদ্দিস আলবানী রহ. এটিকে সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।

❖ রাকআত সংখ্যা:

এ সালাতের সর্ব নিম্ন রাকআত সংখ্যা হল দুই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের সময় ৮ রাকআত সালাতুয যোহা পড়েছিলেন। তবে সঠিক মতানুসারে এর সর্বোচ্চ সংখ্যা নির্দিষ্ট নয়। সুতরাং ইচ্ছা অনুযায়ী দু রাকআত করে, ২, ৪, ৬, ৮, ১০, ১২ বা তার চেয়ে বেশি যতখুশি  এই সালাত আদায় করা যায়। কেননা, এ মর্মে হাদীস বর্ণিত হয়েছে, আমর বিন  আবাসা রা. কে লক্ষ্য করে নবী সা. বলেন
إذا صليت الفجر فأمسك عن الصلاة حتى تطلع الشمس قيد رمح ثم صل فإن الصلاة محضورة مشهودة إلى أن تقف الشمس- أخرجه مسلم في صحيحه مطولا
“ফজর পড়ার পর সূর্য উঠা পর্যন্ত নামায পড়া থেকে বিরত থাকো। তারপর এক বর্শা পরিমান সূর্য উদিত হওয়ার পর নামায পড়ো। কেননা, নামাযে ফেরেশতাগণ উপস্থিত হন। এভাবে তুমি সূর্য (মাথার উপর) স্থির হওয়া পর্যন্ত পড়তেই থাকো।” (সহীহ মুসলিম, এটি একটি লম্বা হাদীসে অংশ বিশেষ)
উক্ত হাদীসে নবী সা. এই সলাতের সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেন নি বরং সূর্য মাথা বরাবার স্থির হওয়ার আগ পর্যন্ত যতখুশি পড়তে বলেছেন।

আল্লাহু আলাম।

▬▬▬▬▬▬▬
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ সেন্টার, সৌদি আরব
fb id: AbdullaahilHadi

Thursday, July 11, 2019

অন্তরের খারাপী ও যিনা থেকে বাঁচার ৯টি দোয়া

নফসের সাথে কাম প্রবৃত্তির একটা সম্পর্ক আছে। তাই ভাই ও বোনেরা দেখুন ত এই দু'আগুলি আমার আপনার জন্য কতটুকু জরুরি।

#অন্তরের_খারাপী_ও_যিনা_থেকে_বাঁচার_৯টি_দোয়া-

রসূলের ভবিষ্যৎ বাণী শেষ জামানায় মানুষের ঈমান টিকিয়ে রাখা নিজের হাতের তালুতে আগুনের কয়লা রখার চেয়েও বেশি কষ্ট হবে। মানুষের ক্বলব/নফস/আত্মা/অন্তর আজ কলুষিত। তাই আজ অবলীলায়য় মানুষ আজ বিভিন্ন পাপ কাজে জড়িয়ে যচ্ছে। ব্যাভিচার/ যিনা আজ তরূণ প্রজন্মের এক মারাত্মক ব্যধি। তাই আল্লাহর কাছে তাহাজ্জুদে, প্রতি আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে, প্রতি ফরজ সলাতের পর, জুমু'আ দিন আসরের পর দু'আ কবুলের বিশেষ মুহূর্তগুলি সর্বাদা আল্লাহর কাছে চাবেন। আর প্রতিদিন ১টি দু'আ শিখলে ৯ দিনে ৯টি দু'আ মুখস্থ হয়ে যাবে। আরবি দেখে মুখস্থ করুন। সহায়তার জন্যে বাংলা উচ্চারণ দেয়া হয়েছে। আর অর্থ সহ মুখস্থ করুন। আর না হলে কি চাচ্ছেন এটিই বুঝবেন না।

#ক্বলব_(#অন্তর)#সংশোধনের_দোয়া-

♣১) দ্বীনের পথে হিদায়াতের উপর টিকে থাকার জন্য আল্লাহর শেখানো দোয়া -

ﺭَﺑَّﻨَﺎ ﻟَﺎ ﺗُﺰِﻍ ﻗُﻠُﻮﺑَﻨَﺎ ﺑَﻌْﺪَ ﺇِﺫْ ﻫَﺪَﻳْﺘَﻨَﺎ ﻭَﻫَﺐ ﻟَﻨَﺎ ﻣِﻦ ﻟَّﺪُﻧﻚَ ﺭَﺣْﻤَﺔً ﺇِﻧَّﻚَ ﺃَﻧْﺖَ ﺍﻟْﻮَﻫَّﺎﺏُ

#উচ্চারণ - রব্বানা-লা-তুযিগ্ কুলূবানা- বা’দা ইয্ হাদাইতানা-অহাবলানা-মিল্ লাদুন্কা রহমাহ , ইন্নাকা আন্তাল্ অহ্হা-ব্।

#অর্থ-  হে আমাদের রব, আপনি হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তরসমূহ বক্র করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি সবকিছুর দাতা। (সূরা আলে ইমরান : আয়াত- ৮)

♣২) অন্তরকে দ্বীনের উপর অবিচল রাখতে রসূলের শেখানো  দোয়া-

ﻳَﺎ ﻣُﻘَﻠِّﺐَ ﺍﻟْﻘُﻠُﻮﺏِ ﺛَﺒِّﺖْ ﻗَﻠْﺒِﻲ ﻋَﻠﻰ ﺩِﻳْﻨِﻚ َ

#উচ্চারণ- ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূবি সাব্বিত ক্বলবী আ'লা- দ্বীনিক।

#অর্থ- হে অন্তর সমুহের ওলট-পালটকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের উপর অবিচল রাখুন। (তিরমিযী : হাসান।)

♣৩)অন্তরসমূহকে আল্লাহর আনুগত্যের দিকে ঘুরানোর দু'আ-

ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﻣُﺼَﺮِّﻑَ ﺍﻟْﻘُﻠُﻮﺏِ ﺻَﺮِّﻑْ ﻗُﻠُﻮْﺑَﻨَﺎ ﻋَﻠﻰ ﻃَﺎﻋَﺘِﻚَ

#উচ্চারণ - আল্লা-হুম্মা মুছররিফাল ক্বুলূবি ছররিফ ক্বুলূবানা- আ'লা- ত্বয়া-আ'তিক।

#অর্থ- হে আল্লাহ! হৃদয় সমূহের
পরিবর্তনকারী! আমাদের হৃদয়গুলোকে আপনার আনুগত্যের দিকে ঘুরিয়ে দিন।
(মুসলিম)

♣৪) হিদায়াত, তাক্বওয়া, সচ্চরিত্র ও প্রাযুর্যতার দু'আ-

ﺍَﻟﻠّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲْ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺍﻟْﻬُﺪﻯ ﻭَﺍﻟﺘُّﻘﻰ ﻭَﺍﻟْﻌَﻔَﺎﻑَ ﻭَﺍﻟْﻐِﻨﻰ

#উচ্চারণ - আল্লা-হুম্মা ইন্নী আস আলুকাল হুদা ওয়াততুক্বা- ওয়াল আ'ফা-ফা ওয়াল গিনা।

#অর্থ- হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হিদায়াত, তাকওয়া, সচ্চরিত্রতা ও প্রাচুর্য্যতার প্রার্থনা করছি। ( মুসলিম)

♣৫) কৃত আমল ও না করা আমলের অনিষ্ট হতে আশ্রয় চাওয়ার দু'আ-

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلاَهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ وَمِنْ قَلْبٍ لاَ يَخْشَعُ وَمِنْ نَفْسٍ لاَ تَشْبَعُ وَمِنْ دَعْوَةٍ لاَ يُسْتَجَابُ لَهَا

#উচ্চারণ- আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউ'-যুবিকা মিনাল আ'জঝি ওয়াল কাসালি ওয়াল জুবনি ওয়াল বুখলি ওয়াল হারামি ওয়া আ'যা-বিল ক্বাবর। আল্ল-হুম্মা আ-তি নাফসী তাক্বওয়া-হা- ওয়া ঝাক্কিহা- আনতা খইরু মান ঝাক্কা-হা- আনতা ওয়ালিয়্যুহা- ওয়া মাওলা-হা-।  আল্ল-হুম্মা ইন্নী আউ'-যুবিকা মিন ইলমিন লা- ইয়ানফা'অ ওয়ামিন ক্বলবিন লা- ইয়াখশা'অ ওয়ামিন নাফসিন লা- তাশবা'অ ওয়ামিন দা'অওয়াতিন লা- ইউসতাজা-বু লাহা-।

#অর্থ- "হে আল্লাহ! আমি আপনার কছে আশ্রয় চাই, অক্ষমতা, অলসতা, কাপুরষতা, কৃপণতা, বার্ধক্য এবং কবরের আযাব থেকে। হে আল্লাহ! আপনার আমার নফসে (অন্তর) তাকওয়া দান করুন এবং একে পরিশুদ্ধ করে দিন। আপনি একে সর্বোত্তম পরিশোধনকারী, আপনিই এর মালিক ও এর অভিবাবক। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই অনুপকারী ইলম থেকে ও ভয় ভীতিহীন কলব থেকে; অতৃপ্ত নফস থেকে ও এমন দুআ থেকে যা কবুল হয় না।" (মুসলিম (ইফাঃ) অধ্যায়ঃ ৫০/ যিকর, দু’আ, তাওবা ও ইসতিগফার, হাদিস নম্বর-৬৬৫৮।)

♣৬)  অন্তরের হেদায়াত ও নফসের অনিষ্ট থেকে বাঁচার দু'আ-

اللَّهُمَّ أَلْهِمْنِي رُشْدِي وَأَعِذْنِي مِنْ شَرِّ نَفْسِي

#উচ্চারণ - আল্লা-হুম্মা আলহিমনী রুশদী ওয়াআ'ইযনী মিন শাররি নাফসী।

#অর্থ- হে আল্লাহ! আমার অন্তরে হেদায়াত ঢেলে দিন আর আমাকে পানাহ দিন আমার নফসের  অনিষ্ট থেকে।  ( তিরমিজী-৩৪৮৩, অধ্যায় ৫০ )

#যিনা_থেকে_বাঁচার_দোয়া-

♣১)ক্ষমা, অন্তর পবিত্র ও চরিত্র রক্ষার দোয়া -

ﺍﻟﻠﻬُﻢَّ ﺍﻏْﻔِﺮْ ﺫَﻧْﺒِﻲ ﻭَﻃَﻬِّﺮْ ﻗَﻠْﺒِﻲ، ﻭَﺣَﺼِّﻦْ ﻓَﺮْﺟِﻲ

#উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাগফির যাম্বী- ওয়া ত্বহহির ক্বলবী- ওয়া হাছছিন ফারজী-

#অর্থ: হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন। আমার অন্তরকে পরিষ্কার করুন এবং আমার চরিত্র রক্ষা করুন। (আহমদ- ২২২১১)

♣২) মন্দ কিছু শোনা, দেখা, বলা, অন্তরের খারাপি ও বীর্যের অপব্যবহার হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য দোয়া -

ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﺳَﻤْﻌِﻲ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﺑَﺼَﺮِﻱ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻟِﺴَﺎﻧِﻲ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻗَﻠْﺒِﻲ، ﻭَﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ
ﻣَﻨِﻴِّﻲ

#উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নী আ’ঊযুবিকা মিন শাররি সাম‘ঈ, ওয়া মিন শাররি বাসারী-, ওয়া মিন শাররি লিসানী, ওয়া মিন শাররি ক্বালবী, ওয়া মিন শাররি মানিয়্যয়ী।

#অর্থ: হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই মন্দ কিছু শোনা থেকে, মন্দ কিছু দেখা থেকে, মন্দ কিছু বলা থেকে, আমার বীর্যের অপব্যবহার হতে রক্ষা পাওয়ার জন্য।
(আবু দাউদ ১৫৫১, তিরমিযী ৩৪৯২, নাসাঈ ৫৪৪৪,৫৪৫৫)

♣৩) গর্হিত চরিত্র, কাজ ও কুপ্রবিত্তি থেকে আশ্রয় চাওয়ার দোয়া -

ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻲ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﻣُﻨْﻜَﺮَﺍﺕِ ﺍﻷَﺧْﻼَﻕِ
ﻭَﺍﻷَﻋْﻤَﺎﻝِ ﻭَﺍﻷَﻫْﻮَﺍﺀِ

#উচ্চারণ - আল্লা-হুম্মা ইন্নী আউ'-যুবিকা মিন মুনকাড়া-তিল আখলা-ক্বি ওয়াল আ'অমা-লি ওয়াল আহওয়া-অ।

#অর্থ- হে আল্লাহ,  আমি তোমার কাছে গর্হিত চরিত্র, গর্হিত কাজ ও কুপ্রবিত্তি হতে আশ্রয় চাই। (তিরমিযী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন।৬ষ্ঠ খন্ড।অধ্যায়ঃ দোয়া।হাদিস নাম্বার ৩৫৯১।)

বি:দ্র- আমার অনুমতি ছাড়াই দু'আগুলি কপি, পেষ্ট করে ছড়িয়ে দিন ওয়ালে, গ্রুপে, পেজে, ইনবক্সে, ব্লগে। আর নোটপ্যাড এ সেভ করুন পোষ্টটি তাহলে আরবি ফন্ট বড় আসবে।

Monday, July 16, 2018

Marketing Mix – 8 Ps

Marketing Mix – 8 Ps:

1. Product
2. Price
3. Promotion
4. Place
5. People
6. Process
7. Physical evidence
8. Productivity


1. Product
The core of any marketing effort, the product must be something customers desire. The best marketing in the world will have difficulty selling a product for which their is no demand. Therefore, the marketing manager must understand how the product helps the customer solve a problem or achieve a goal. The marketer must also understand the product's relationship in the market -- how is it superior to the competition? One of the most helpful tools available at this stage is product testing. There are different types of product testing, as you can see. Placing a product into the hands of the customer allows you to gain insights unavailable any other way. What does the customer believe the product will do for them? How do they see your product in relation to the competition? Remember that "the customer is always right" -- what they believe is what they will use to choose what to buy -- and it's easy to understand how this information is more valuable than anything said in a meeting or boardroom.

2. Price
Contrary to popular opinion, price is not the main reason customers buy. An inappropriate price can still cost you a great deal of money, though -- whether it's in lost sales or in "money left on the table." Therefore, check that prices of products and services are appropriate both to the reality of the market and the cost of delivering them. Often, changing terms of sale or combining products together may create a negligible effect on the cost while creating a tremendous effect on the perceived value. These "extra bonuses" may cost next to nothing while making your prices instantly far more attractive.

3. Promotion
Promotion is the heart of what most people think of as "marketing." Promotion encompasses every aspect of packaging, advertising, sales methodology, and salespeople. Promotions may use small items such as these or contests to induce the customer to engage with the brand or the product. Small changes to promotion may produce dramatic changes in your profits. A tiny tweak to your advertising, for example, can easily double your sales. As you work, keep in mind that no marketing works forever. Stay prepared to develop new approaches, strategies, and offers on an ongoing basis in order to keep ahead of the market's changing tastes.

4. Place
Where the customer meets the salesperson is the "place." Direct sales methods put the place in the customer's home or office, with a salesperson personally going out to talk with the prospect. (Mail order and catalogue marketers replace the salesperson with printed matter.) Other companies use retail establishments or trade shows as their "place." In many instances you'll find that a combination of these methods produces the best results. Now, let's look at the "New Four Ps," which extend this model to service-based businesses and a customer-service oriented world.

5. People
Selecting, recruiting, hiring, and retaining the people who will do the job that needs to be done is among the most important parts of business.

6. Process
As tempting as it is to think of process in terms of your needs, to marketers process is in fact what your customers experience. The process issues that are most annoying for a customer are the process elements which put the provider's convenience ahead of the customer's. Therefore, design your process to maximise the customer's enjoyment throughout.

7. Physical evidence
All the visible and tangible traces of your business that a customer encounters prior to buying are the physical evidence. Advertising, signage, your reception area, your corporate brochure, even staff clothing are part of the physical evidence of your business. Use physical evidence to stand out from the competition and create a strong brand image.

8. Productivity
As with process, this is less about your internal productivity than your ability to deliver to your customers. Productivity in this regard is always combined with quality - you supply the best quality every time.

Collected from Internet